সোমবার, ৭ মে, ২০১৮

Alcohol Consumption in Bangladesh is on the RISE


Alcohol consumption poses serious threat to human health and is responsible for causing more than 200 diseases. Alcohol consumption results in 3.3 million deaths per year worldwide. Of all deaths worldwide, 5.9% are due to alcohol use, a figure higher than deaths from human immunodeficiency virus infection (2.8%) and tuberculosis (1.7%). According to World Health Organization (WHO), it is among main four modifiable risk factors for no communicable diseases. In Bangladesh, the consumption of alcohol is strictly prohibited both as a social function and as a religious rite by most of the religions. Yet, the problem of alcoholism is becoming a threat to the nation’s welfare. Information obtained from law enforcement authorities, treatment providers and other sources indicate that problems of alcohol abuse have become quite common in Bangladesh.



Social Background:
Cultural and religious determinants have great impact on alcohol consumption among different classes of Bangladeshis. Considerable proportion of indigenous population of Bangladesh consume alcohol for social recreation, ritual and religious purposes. Alcohol consumption in some working classes like workers in morgue, boot makers and tea factory laborers is reported to be higher. Nonetheless, it has been reported that among people with higher income, alcoholic drinking is also popular and is considered as a sign of “modernity” or “westernized life style”.

Alcohol and government policies in Bangladesh:
According to the “Intoxicant Control Act” of Bangladesh (1990), alcohol means spirit or liquor of whatever kind (wine, beer), or any liquid containing more than 0.5% alcohol. Specific license is required for establishing a distillery or brewery, possession, storage and consumption of alcohol. Consumption of alcohol is illegal unless for: a) Muslim citizens who receive a permission for alcohol use on a health ground from either a civil surgeon or an associate professor of medicine, b) sewage cleaners, morgue workers, coolie (day laborer) in a tea estate, boot makers and indigenous people residing in Chittagong Hill Tracts or CHT c) international tourists and businessmen who consume alcohol in a licensed bar, and d) non-Muslim citizens (with permit). This act has some loopholes as; the act does not specify the health conditions for which a Muslim may be allowed to use alcohol and the decision rests on the authorized physician. Furthermore, because of multiethnic background of Bangladesh and to avoid interfering with old traditions and local culture, use of alcoholic beverages was announced as permissible for indigenous people after an amendment to this act in 2001. Therefore, there is partial ban on alcohol use. It is interesting that only the Muslim citizens are punishable under this act and others are not. There is no minimum age limit for drinking alcohol.

Types of liquor available:
Different types of beverages with varying alcohol content, available in different parts of Bangladesh. It can segmented in two ways as industrially produced name as ; Country liquor, Foreign liquor, Toddy, Beer and Spirit. All brands of Carew and company contain 42.8% ethanol. Homemade brews or Local alcoholic beverages called cholai, tari,Pochani, Ekchuani, Dochuani and Bangla Mad consumed by the lower socioeconomic classes.

Prevalence of alcohol use in Bangladesh:
WHO and Food and Agricultural Organization reports in 2004, 2011 and 2014 have shown an increasing trend in alcohol per capita consumption (APC) in Bangladesh. Binge drinking or heavy episodic drinking has been reported in 20.2% of Bangladeshi drinkers and the majority of them were found to be within 25-44 age group. According to 2014 WHO report; alcohol dependence in Bangladesh was estimated to be 0.7% in general population. However, in certain professions or population are prevalence’s such as vehicle drivers, sex workers, substance abusers with, street (homeless) children (11-18 years old) and university students. There are roughly 4.6 million drug abusers in Bangladesh. Therefore, about 510,600 alcohol abusers likely exist among drug addicts. But alcohol use prevalence in Bangladesh is approximately 24 times higher than estimated legal consumers. Alcohol consumer is generally higher male than female.  Regarding the age of alcohol consumers in Bangladesh the majority are within 25 to 44 years of age.

Toxic alcohol ingestion:
According to epidemiologic studies on poisonings in Bangladesh, total of 635 deaths due to alcohol overdose and toxic alcohol ingestion have been reported since 1990s. Illegal homemade beverages came to attention after mass poisoning outbreaks of methanol happened in different parts of the country. Nineteen incidents of methanol mass poisoning were reported during 1998 to 2014 in Bangladesh. During the same period 273 deaths were reported from methanol toxicity. The other highly toxic alcohol, diethylene glycol, was responsible for 363 deaths during the period of 1990 to 1995 and the year 2009.

Alcohol-related morbidities:
Critical organ damages due to chronic toxicity of alcohol drinking such as chronic liver disease (CLD) and hepatocellular carcinoma have been observed in different extents in Bangladesh. Long-term effects on liver was studied among indigenous people of CHT with history of consumption of more than 60 g alcohol in each sitting over 10 years. Alcohol abuse is also instigate physical injuries from accident or violence.

Discussion:
Estimated prevalence of alcohol consumers in general population of Bangladesh is low (1.9%). The results were also consistent with low prevalence of alcohol use in countries with Muslim majority. However, we found that the alcohol consumption in Bangladesh is on the rise. Increase in domestic production, increased number of permits issued for drinking and massive amount of seizures of illegal liquor suggest that actual amount of alcohol use may be much higher than the official reports. This is probably due to the fact that many consumers purchase alcoholic drinks from illegal vendors and are still unaccounted for.  Higher prevalence of alcohol use among the university students, truck drivers, sex workers, substance abusers, homeless children, indigenous people, and in families with positive history for alcohol drinking, implies the need to formulate cost effective prevention programs for specific society groups and clusters. Targeted intervention among high-risk population to encourage them to consume alcohol within a safe limit or to quit drinking will be an effective measure. 





মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৮

সিঙ্গাপুর ভ্রমন কাহিনী ও অভিজ্ঞতা

ভ্রমন করা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। আমরা ব্যক্তিগত ও পেশাগত কর্ম ব্যস্ততা, পারিবারিক, সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কর্মের একঘেয়েমি জীবন ক্ষণিকের জন্য হলেও বিশ্রাম ও তৃপ্তি পেতে চায়। আর সেই জন্য ভ্রমন হল একমাত্র অবলম্বন। আত্মার প্রশান্তি, মানষিক অবস্থার পরিবর্তন, দেশ ও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত ও স্থান সম্পর্কে ধারনা লাভ, নানামুখী মানুষের সাথে পরিচয়, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন ও সর্বোপরী কর্মের একঘেয়েমি জীবনকে নতুনত্ব দেওয়া ও মন মানষিকতাকে চাঙ্গা করার জন্য ভ্রমনের প্রয়োজন রয়েছে। আর কাজের পাশাপাশি ভ্রমন হলে ত কথাই নেই।

আমি একজন ভ্রমন পিপাষু মানুষ, সুযোগ পেলেই ভ্রমনে বের হয়ে পড়ি। আর সেটা যদি হয় নিজ দেশের গন্ডির বাইরে ও অফিসিয়াল কাজে তাহলে  কথায় নেই। অনেকটা রথ দেখা হল, কলাও বেচা হল। বিদেশ ভ্রমন এর অভিজ্ঞতা বলতে শুধু মিয়ানমারে ভ্রমনের অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে, তা ও ছিল অফিসিয়াল কাজে ২০১৩ সালে ও স্বল্প সময়ের জন্য। অনেক দিন পর আবার  সুযোগ হল অফিসিয়াল কাজে সিঙ্গাপুওে শিক্ষা ভ্রমন করার। আমরা সরকারি প্রতিনিধি ও বেসরকারি প্রতিনিধি মোট সাত জন এই সফরের সদস্য ছিলাম। আমাদের সফর সঙ্গি হিসেবে ছিলেন, উপ-সচিব, প্রবাসি কল্যাণ ও বৈদিশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, যুগ্ন মহাসচিব, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা), প্রোগ্রাম কো-অডিনের্টর প্রকাশ-ব্রিটিশ কাউন্সিল, প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, রামরু, পরিচালক (সমাজ উন্নয়ন), ইপসা, রিসার্চ এন্ড লানিং অফিসার, ইপসা ও আমি  (প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ইপসা)। সিঙ্গাপুর সফরটি মূলত ছিল, সিঙ্গাপুর অবস্থিত বাংলাদেশী শ্রমিকদের অবস্থান নির্ণয় ও বাংলাদেশী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মহলের সাথে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা। পরবর্তীতে এই সফরের অর্জিত শিক্ষণীয় বিষয় সমূহ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যক্তিবর্গকে তাগিদ দেওয়া, যাতে বাংলাদেশী অভিবাসন প্রক্রিয়াটা নিরাপদ ও নিয়মিত হয়। যাই হোক এই বিষয় নিয়ে আরেক দিন আলোচনা হতে পারে। আজকের আলোচনা মূলত সিঙ্গাপুর ভ্রমন কাহিনী ও অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা।
 প্রথমে আমরা সিঙ্গাপুরের ভিসার জন্য আবেদন করি, সিঙ্গাপুর হাই কমিশন কর্তৃক মনোনিত এজেন্সি থেকে, এজেন্সির তালিকা ও করনীয় দিক সর্ম্পকে ওয়েব সাইটে সু-স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে। ভিসা পেতে সর্বমোট খরছ হয়েছিল ৪৫০০ টাকা। কারণ আমরা এজেন্সির নির্দেশনা মোতাবেক সমস্ত কাগজপত্র সঠিকভাবে সাবমিট করে ছিলাম তাই ভিসা পেতে দেরী হয়নি। ভিসা পেতে যে সমস্ত কাগজপত্র জমা দিয়েছিলাম;




১. পাসপোর্ট (কমপক্ষে ছয় মাসের মেয়াদ থাকতে হবে)
২. ম্যাট পেপারে ছাপানো ( ২ ঢ ২ ) দুই কপি ছবি
৩. সর্বশেষ ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটম্যান্ট (ব্যাংক স্টেটম্যান্ট অবশ্যই লাখের অধিক টাকা জমা থাকলে ভাল হয়)
৪. ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত সলভেন্সি সার্টিফিকেট
৫. সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত ছুটি মঞ্জুর আবেদন
৬. সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত নো অবজেকশন সার্টিফিকেট
৭. ভিজিটিং কার্ড

এইগুলো কাগজপত্র ঠিকমত জমা দিলে খুব সহজেই ভিসা পাওয়া যায়। আমরা ভিসা আবেদন করার ১০-১২ কর্ম দিবসের মধ্যে সিঙ্গাপুরে ভ্রমনের ভিসা পেয়ে যাই।

ভ্রমন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ সকাল ০৬ টা বাসা থেকে বের হই অফিসের গাড়ি করে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা, বহাদ্দারহাট না যেতেই আমাদের গাড়ি ঘুরাতে হল, কারণ আমাদের দল নেতা ভুলবশত ডলারের পরিবর্তে বাসা থেকে ইন্ডিয়ান রুপি নিয়ে এসেছেন। মনে মনে ভাবলাম দিনের শুরুটা মনে হয় ভাল হল না। যাই হোক আল্লাহর উপর ভরসা রাখলাম। দল নেতা এর বাসা থেকে দ্রুত ডলার নিয়ে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। পথে লালখান বাজার থেকে আমার আরেক সহকর্মি ও সিঙ্গাপুর ভ্রমনের সহযাত্রি উঠলেন। আমাদের গাড়ি খুব দ্রুত এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে চলল। এবং ঠিক সময়মত আমরা চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট পৌছে গেলাম। আগ থেকেই রিজেন্ট এয়ারলাইন্স এর টিকেট ক্রয় ছিল এবং যাত্রা সময় ছিল সকাল ০৮ টা। এয়ারপোর্টে গিয়ে শুনি রিজেন্ট এয়ারলাইন্স এর এয়ার ক্রাফটটি আসতে ঘন্টা খানিক বিলম্ব হতে পারে। তখন আমরা চিন্তায় পড়ে গেলাম, কারণ ঢাকা থেকে আমাদের ফ্লাইট বেলা ১২.৪৫ মিনিটে। তাছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইটে তিন ঘন্টা আগে কাউন্টারে রিপোটিং করতে হয়। মনে মনে ভাবলাম বিড়ম্বনা আমাদের পিছু ছাড়ছেনা। এই অবস্থায় আমাদের টিম লিডার দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, রিজেন্ট এয়ারলাইন্স এর টিকেট বদলিয়ে সকাল ৮.৩০ মিনিটের ইউএস বাংলার টিকেট ক্রয় করলেন এবং আমরা সকাল ৯.১৫ মিনিটের মধ্যে ঢাকা, হযরত শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোটের্  পৌছলাম। এই সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যে আমরা কিন্ত ভালভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। 

পরবর্তিতে আমরা খোজাখোজি করে আমাদের নির্ধারিত এয়ার লাইন্স সিঙ্গাপুর এয়ার লাইন্স এর কাউন্টার খুজে বের করলাম। পূর্বে থেকে আমরা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এর টিকেট ক্রয় করে রেখিছিলাম। ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে যাওয়া অন্যান্য সহ-কর্মীরা যারা ঢাকায় থাকেন তাদের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। আমরা একসাথে কাউন্টারে দাড়িয়ে এয়ারলাইন্স এর টিকেট নিলাম ও আমাদের সঙ্গে ব্যাগগুলো এয়ার লাইন্স কাউন্টারে জমা দিয়ে দিলাম। পরবর্তীতে ইমিগ্রেশন কাউন্টার এর প্রয়োজনীয় কাজ সেরে আমরা এয়ারপোটের্  এর ভিতরে অপেক্ষা করতে লাগলাম। এমন সময় বায়রা’র সেক্রেটারী নোমান ভাই আমদেরকে এয়ারপোটের্  এর তৃতীয় তলায় ইবিএল এর স্কাই লাউঞ্চে লাঞ্চ এর আমন্ত্রন জানালেন। তখন প্রায় বেলা ১১.৩০ টা, সবার ভাল খিদে ও ছিল।  স্কাই লাউঞ্চের সু স্বাদু ও রুচিকর খাবার আমারা সবাই উপভোগ করলাম। তার জন্য নোমান ভাইকে বিশেষ ধন্যবাদ জানালাম। বেলা ১২.১৬ টায় আমরা ফ্লাইটে উঠার জন্য প্রস্ততি গ্রহন করলাম এবং ফাইনাল চেকিং এর জন্য লাইনে দাড়ালাম। নিরাপক্তা কর্মীরা আমার বেল্ট, সু ও কোর্ট খুলে পরীক্ষা করল। আমি তাতে সহযোগিতা করলাম। এবং একজন নিরাপক্তা কর্মী আমাকে বলেই ফেলল আমার কাছে কত ডলার আছে। আমি ভয় না পেয়ে যথাযথ উত্তর দিলাম। সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে আমরা এয়ারবাসে গিয়ে বসলাম। আমার সিটটি এয়ারবাসের  শেষের দিকে  মাঝামাঝি অবস্থানে পড়ল। এয়ারবাসের ক্রুরা আমাদের স্বাগতম জানালেন এবং গরম টাওয়াল দিলেন হাত মুখ পরিস্কার করার জন্য। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময় বেলা ১২.৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ত্যাগ করল।  এয়ারবাসটি খুবই আধুনিক ছিল । আমরা সিটের সামনে অবস্থিত স্ক্রিনে দেখতে লাগলাম আমাদের এয়ারবাসের গতি, এয়ারবাসটির অবস্থান ও ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের দুরুত্ব। কিছুক্ষণ যেতে না যেতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এর ক্রুরা যাত্রিদের পছন্দের মত খাবার ও পানীয় দিতে শুরু করল। আমরা আমাদের প্রয়োজন মত পছন্দনীয় খাবার ও পানীয় খেতে লাগলাম। এদিকে স্ক্রিনে দেখলাম আমরা কক্রাবাজার ছেড়ে মিয়ানমারের আকাশ সীমানা অতিক্রম করছি। পরবর্তীতে থাইল্যান্ডের সীমানায় ঢুকে গেলাম এভাবে থাইল্যান্ডের আকাশ সীমানা শেষ করে মালয়শিয়ার আকাশ সীমানায় প্রবেশ করলাম। এভাবে প্রায় ৪ ঘন্টা পর স্থানীয় সময় ৬.৪৫ মিনিটে আমরা সিঙ্গাপুরে অবতরণ করলাম। যেহেতু সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের পূর্বে অবস্থিত, সেহেতু বাংলাদেশের সময় থেকে সিঙ্গাপুর এর স্থানীয় সময় দুই ঘন্টা বেশি যোগ করতে হয়। 

সিঙ্গাপুরের বিমানবন্দরটি অনেক সুন্দর গোছানো।
(ছবি) যাত্রিদের চলাচলের সুবিধার্থে রয়েছে মুভিং ওয়াকওয়ে  (প্লেন স্কেলেটর)। আমরা কিছু সময় হেটে ও কিছু সময় মুভিং ওয়াকওয়ে  তে করে ইমিগ্রেশন পয়েন্টে যেতে লাগলাম। সিঙ্গাপুরের বিমানবন্দরে যাত্রিদের সুবিধার্থে রয়েছে স্কাই ট্রেন, পাতাল ট্রেন ও ওয়াইফাই সুবিধা। আধুনিক বিমানবন্দরের সমস্ত সুবিধা সিঙ্গাপুর বিমান বন্দরে রয়েছে। প্রায় ঘন্টা খানেক হাটার পর আমরা ইমিগ্রেশন পয়েন্টে আসলাম ও লাইন দড়ে দাড়ালাম ইমিগ্রেশন ক্রস করার জন্য। একে একে সবাই ইমিগ্রেশন পার হল। আমি ইমিগ্রেশন পয়েন্টে যাবার পর দায়িত্বরত অফিসার আমরা পাসপোর্ট স্কেন করে আমার নাম জিজ্ঞাসা করলেন এবং সিঙ্গাপুরে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। আমি যথাযথ উত্তর দিলাম এবং একটু পরে আরেক ইমিগ্রেশন অফিসার এসে আমাকে ইমেগ্রেশন পয়েন্টের বাইরে অন্য জায়গায় নিয়ে গেল এবং আমাকে অপেক্ষা করতে বলল। আমি রীতিমত ভয় পেতে লাগলাম এবং  নিজেকে সাহস দিতে লাগলাম। ভাবলাম কিছু হবে না। 
পরে একজন ইমিগ্রেশন অফিসার এসে আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে লাগলেন, আমার নাম, কোথায় চাকুরী করি, চাকুরীর ধরন, সিঙ্গাপুরে আসার কারণ, সিঙ্গাপুরে কোথায় উঠেছি, হোটেলের ঠিকানা, রিটার্ন টিকেট আছে কিনা তা দেখতে চাইলেন, এমনকি আমার মোবাইলে কি আছে তাও দেখতে চাইলেন। আমি সাহস ও ধৈর্য ধরে ইমিগ্রেশন অফিসার এর সমস্ত প্রশ্নের উক্তর দিতে লাগলাম এবং প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র আমার সাথে অবস্থিত ছোট ব্যাগ থেকে বের করে দেখাতে লাগলাম। ভাগ্য ভাল খেয়াল করে প্লেনের টিকেট, হোটেল বুকিং টিকেট, জাতীয় পরিচয় পত্র কপি, ভিজিটিং কার্ড ইত্যাদি সঙ্গে রেখেছিলাম। মনে মনে ভাবছি আমার সহযাত্রি ও সহকর্মীরা আমার জন্য খুব চিন্তা করছে। পরবর্তীতে শুনেছিলাম বায়রা’র সেক্রেটারী নোমান ভাই ও পরিচালক মাহাবুব ভাই খুব চেষ্টা করেছিলেন আমার ব্যাপারে খোজ নিতে, তবে তারা ব্যার্থ হয়েছিলেন। কেউ আমার ব্যাপারে কোন তথ্য দিতে পারে নাই কারণ এটা গোপনীয় ও ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট এর একান্ত ব্যাপার। যাই হোক মনে মনে আমি ভেবেছিলাম, যেহেতু আমি কোন অপরাধ করিনি আর সমস্ত কাগজ পত্রাদি আমার ছিল এবং চাহিবা মাত্র আমি সব প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদি সিঙ্গাপুরের ইমিগ্রেশন অফিসারকে দেখিয়েছি, তাই ভয় করার কিছু নেই। প্রায় এক ঘন্টা পর ইমিগ্রেশন অফিসার আমাকে ডেকে আমার পাসপোর্ট আমার হাতে দিয়ে মৃধুভাষন সুরে সিঙ্গাপুরে প্রবেশের অনুমতি দিলেন। আমি খুশি হলাম এবং আল্লাহর নিকট শুকরিয় আদায় করলাম। ইমিগ্রেশন ক্রস করে দেখি, আমার সহকর্মীরা আমার অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছে। তারা আমাকে দেখে খুব খুশি হলেন এবং ভিতরে আমার সাথে কি হয়েছিল তা জানতে চাইলেন। আমি উনাদের সব কিছু খুলে বললাম। ইমিগ্রেশন ক্রস করে শুনলাম আমার ট্রাভেল ব্যাগটি খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। রীতিমত আমার দুঃচিন্তা আবার বেড়ে গেল। আমি কনভেয়ার বেল্ট এর কাছে গিয়ে আমার ব্যাগটি খুজলাম কিন্তু ব্যাগের সন্ধান পেলাম না। পরবর্তীতে লস্ট এন্ড ফন্ড কেন্দ্রে গিয়ে আমার হারিয়ে যাওয়া ব্যাগের ব্যাপারে অবহিত করলাম। কর্তৃপক্ষ আমার বিষয়টি আমলে নিলেন এবং ব্যাগের বিস্তারিত বিবরণ লেখে রাখলেন। এই জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন। মনে মনে ভাবছি আমার কাপড় ছোপড় সব শেষ এবং হোটেলে গিয়ে কি পড়ব বা এই কয় দিন কিভাবে কাটবে। এক পর্যায়ে লস্ট এন্ড ফন্ড এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাকে ১২০ ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় দশ হাজার টাকা দিয়ে বললেন একটি ব্যাগ কিনে নেওয়ার জন্য। এবং আশস্ত করলেন ব্যাগ পাওয়া মাত্র আমার নিকট পৌছে দিবে। মনে মনে ভাবলাম কোন কিছু হারিয়ে গেলে কি আর ফেরত পাওয়া যায়। লস্ট এন্ড ফন্ড এর থেকে টাকা পাওয়ার বিষয়টি সহকর্মীদের কাছে শেয়ার করলে বিষয়টি নিয়ে সবাই খুব মজা করলেন। পরবর্তীতে আমরা টেকি্রা ক্যাবে করে সিঙ্গাপুরের চাংঙ্গি এয়ারপোর্ট থেকে পূর্বে নির্ধারিত হোটেলের উদ্দ্যেশে নোভেনা রওনা দেই। আমাদের সাথে ছিলেন বৈদিশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব, উনাকে রিসিভ করার জন্য  সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে গাড়ি পাঠিয়েছিলেন। সচিব মহোদয় হাই কমিশন এর গাড়ি করে হোটেলের উদ্দ্যেশে রওনা দেন। প্রায় ২৫ মিনিট এর মধ্যে আমরা আমাদের হোটেলে পৌছে যাই। হোটেলে ফ্রেশ হয়ে, রাত নয়টায় আমরা খাবারের উদ্দ্যেশে মোস্তফা সেন্টারে কাছে যাই। সেখানে একটি ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্ট আমরা রাতের খাবার খেয়ে, রাত এগারটার দিকে আবার হোটেলে ফিরে আসি। হোটেলে প্রবেশ না করতেই রিসিপশন থেকে একজন বলল আবদুস সবুর কে আপনার একটি লাগেজ এয়ারপোর্ট থেকে এসেছে। খবর টি শুনার পর অমি খুব আনন্দিত হলাম এবং আমার সহকর্মীরা ও খুব আনন্দিত হল। আমরা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এর দায়িত্ববোধ এর খুব প্রশংসা করলাম। অবশেষে আমরা সবাই ঘুমাতে গেলাম এবং আল্লাহর কাছে শুকরিয় আদায় করলাম অনেক বাধা বিপত্তি পেড়িয়ে যে আমরা সুস্থভাবে সিঙ্গাপুরে এসে পৌছেছি। ঘুমানোর আগে আমি একটু স্মরন করলাম আজকে দিনে ঘটে যাওয়া আমার সাথে বিশেষ দিক গুলো। ভাবলাম এটা একটা বিশাল অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। বিশেষ করে বিপদে ধৈর্য্য না হারানো, স্বাভাবিক থাকা, প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজ পত্রাদি সাথে এক কপি করে রাখা।

পরের দিন ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে হোটেলের লবিতে গিয়ে কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাষ্ট শেষ করি। সিঙ্গাপুরের খাবার দাবার আমার বেশ ভালো লেগেছে। সকালের নাস্তা শেষ করে আমরা আমাদের পূর্ব নির্ধারিত কাজ সিঙ্গাপুরের অবস্থিত বাংলাদেশের হাই কমিশন এর সাথে বৈঠক এর উদ্দ্যেশে কেপেল রোড, জিট পো বিল্ডিং যাত্রা শুরু করি। যাত্রাপথে দেখছি সুন্দর রাস্তা ঘাট, দারুন স্থাপনা। দেখছি আর মন জুড়িয়ে যাচ্ছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন একটা শহর। কোন হর্ন এর শব্দ নেই, ভীড় নেই। যাত্রিরা লাইনে দাড়িয়ে বাসে উঠছে। (ছবি) লাইন ঠিক করার জন্য কোন লোক নেই। কারন কেউই লাইন ভাংছে না। নিয়মের প্রতি কি শ্রদ্ধাবোধ। আমার শুধু মুদ্ধতা বেড়েই চলছে সিঙ্গাপুরের মানুষের প্রতি। প্রায়ই বিশ মিনিটে আমরা পৌছে গেলাম বাংলাদেশ হাই কমিশন অফিসে। সেখানে আমরা সিঙ্গাপুরের অবস্থিত বাংলাদেশী শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা ও করনীয় দিক সর্ম্পকে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা করলাম। আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এল, যা পরবর্তীতে রির্পোট লেখার ভাল খোরাক জোগায়। আমাদের এই দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা অংশগ্রহন করেছিলেন লেবার কাউন্সিলর ও ফাস্ট সেক্রেটারী বাংলাদেশ হাই কমিশন, সিঙ্গাপুর । 
আমরা তাদের আতিথিয়তা ও সহযোগিতায় মুগ্ধ হয়েছি। দিন শেষে আমরা সিঙ্গাপুরের অবস্থিত একটি স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টি ডব্লিউ সি টু সাথে এক জ্ঞান বিনিময় সভার অংশগ্রহন করি। টি ডব্লিউ সি টু এর অফিসটি বিছ রোড, গোল্ডেন মাইল কমপ্লেক্রা এ অবস্থিত। এই জ্ঞান বিনিময় সভায় আমরা টি ডব্লিউ সি টু শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় কি কি কাজ করছে তা জানতে পারলাম, পাশাপাশি আমরা যারা বাংলাদেশ থেকে এসেছি আমরা কি কাজ করছি ও আমাদের ভিজিটের উদ্দ্যেশে সর্ম্পকে জানাতে পারলাম। এই সভায় আমরা বেশ কিছু বাংলাদেশী শ্রমিকদের সাক্ষাৎকার গ্রহন করেছিলাম ।
সভা শেষে আমরা পাশে অবস্থিত ইন্ডিয়ান মার্কেট থেকে প্রয়োজনীয় শপিং করলাম। এখানে একটি কথা না বললে নয় সিঙ্গাপুরে ইন্ডিয়ানদের ভালো অবস্থান রয়েছে বিশেষ করে তামিলদের। এমনকি সিঙ্গাপুরে গণপরিবহনে তিনটি ভাষায় ঘোষণা দেওয়া হয় তার মধ্যে একটি তামিল ভাষা। সারাদিন অফিসিয়াল কাজ শেষে আমরা হোটেলে ফিরে যাই এবং ফ্রেশ হয়ে রাতে আমরা বাংলাদেশী খাবারের উদ্দ্যেশে বাহির হই। পরবর্তীতে আমরা মোস্তফা সেন্টারের নিকট একটি বাংলাদেশী খাবার হোটেলের সন্ধান পাই, সেখানে আমরা প্রায়ই তিন দিন পরে বাংলাদেশী খাবার ভাত, ভর্তা, ডাল, মাছ ও সবজি দিয়ে পেট ভরে খাই।

তারপরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ আমরা পূর্বনির্ধারিত বৈঠক সিঙ্গাপুরের রিক্রুটার, পিপলস ওয়ার্ল্ড ওয়াইড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর সাথে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহন করি ।
বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, হিল্টন গার্ডেন ইন, বিলিয়স রোডে। এই বৈঠকে সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশী শ্রমিকদের যোগ্যতা, বিশ^স্ততা বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থার ডিজিটালকরণে সিঙ্গাপুর সরকারের পদক্ষেপ এর বিষয়টি আলোচনা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পিপলস ওয়ার্ল্ড ওয়াইড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠক পরবর্তীতে আমরা সিঙ্গাপুরের রিক্রুটিং এজেন্সি এর সভাপতির সাথে এক লাঞ্চ বৈঠকে অংশগ্রহন করি। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় কালিশ পরবত রেষ্টুরেন্ট, বিলিয়স রোডে । এই বৈঠকে আলোচনা হয় কিভাবে সিঙ্গাপুরের মহিলা শ্রমিক পাঠানো যেতে পারে। একইভাবে সিঙ্গাপুরের বাইরে আর কোথায় বাংলাদেশী মহিলা শ্রমিক পাঠানো যেতে পারে। 
এই আলোচনায় উঠে আসে হংকং এর নাম। বৈঠক শেষে আমরা বিকেলে অচার্ড এ বিলাসবহুল বহুতল বিপণণ মার্কেট দেখতে যাই (ছবি) । সিঙ্গাপুরের অচার্ড পয়েন্ট এমন এক স্থান যেখানে বিশে^র সমস্ত নাম করা ব্যান্ডের আউটলেট রয়েছে। অচার্ড এর মার্কেটে আমদের এক মজার কাহিনী রয়েছে। আমার এক সিনিয়র কলিগ অচার্ড এর প্যারাগণ মার্কেটে প্রবেশ করে ওখানে GUCCI আউটলেটে একটি পার্টস  পছন্দ করে পরবর্তিতে দাম জিজ্ঞাসা করলে যার মূল্য বলা হয় ৪৮০০ ডলার যার বাংলাদেশী টাকায় মূল্য ৩১২,০০০ টাকা। পরবর্তীতে অচার্ড এর মার্কেট সর্ম্পকে আমাদের এক ভাল ধারনা হয়। আমরা অচার্ড এর মার্কেট গুলোর বাহ্যিক অবয়ব ও সৌর্ন্দয্য অবগাহন ও অবলোকন করে সিটি বাসে করে আমাদের হোটেলে ফিরে আসি। তবে অচার্ড এর মার্কেট থেকে একেবারে কিছু না ক্রয় করে ফিরিনি আমার সাধ্যের মধ্যে ১৫ ডলার দিয়ে একটি টর্চ লাইট ও আমার মেয়ে ফাইযার জন্য বেলুন ক্রয় করি। অচার্ড থেকে ফেরার পথে সিঙ্গাপুরের সিটি বাসে চলার বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জন করি।

সিঙ্গাপুরের সিটি বাসে চলতে গেলে কার্ড অথবা কয়েন লাগে আর একেক বাস একেক রোডে চলে তার জন্য রোড নম্বর জানতে হয়। সিঙ্গাপুরে প্রত্যেক বাস স্টপেজে বাস চলাচলের লে-আউট, ভাড়ার তালিকা ও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া আছে। আমরা অল্প কিছু সময়ের মধ্যে হোটেলে ফিরে আসি। এই দিন রাতে আমরা সিঙ্গাপুর শহর দেখার জন্য বাহির হয়। হোটেল থেকে প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে আমরা বে-ফ্রন্ট ভিউ তে অবস্থিত মেরিনা বে সেন্ডস এ যাই । সেখানে আমরা ফায়ার ওয়ার্কস দেখতে পাই। সিঙ্গাপুরের রাত মানেই রঙীন আলো আর অনিন্দ্য সৌন্দর্য । উচুঁ  উচুঁ বিল্ডিং গুলো মনে হয় কাচঁ আর লাইট দিয়ে তৈরী। প্রায়ই ঘন্টা খানেক মেরিনা বে সেন্ডস এ থেকে সিঙ্গাপুরের রাতের সৌন্দর্য উপভোগ করে হোটেলে ফিরি।




২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ প্রতিদিন সকালের মত ভোরে উঠে, হোটেলের ৭ম তলায় অবস্থিত সুইমিং কমপ্লেক্রা ও ব্যায়ামাগারে যাই। সেখান থেকে সিঙ্গাপুরের সকালের সৌন্দর্য উপভোগ করি। স্কুলগামি স্কুল বাসগুলো সারি সারি লাইন দেখতে পেলাম (ছবি) । অফিসগামি মানুষের চাঞ্চল্যতা চোখে পড়ল। শ্রমিকদের কাজে যোগদানের মূর্হুত চোখে পড়ল। তবে সবকিছুই যেন একটা অদৃশ্য শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে হচ্ছে। কোথায় কোন গাড়ি হরণ বাজাছে না, বা পাবলিক পরিবহনের নেই একে অপরকে ওভারটেক করার প্রবণতা। পুলিশ/নিরাপক্তা বাহিনী বা ট্রাফিক পুলিশের তেমন উপস্থিতি চোখে পড়ছে না। গাড়িগুলো সিগন্যাল লাইট দেখে গাড়ি চাড়ছে আবার সিগন্যাল লাইট দেখে থামছে। জেব্রা ক্রসিং পথচারি না থাকলেও গাড়ি থেমে যাচ্ছে। এ যেন সফর্টওয়্যারে সেট করা অটোমেশন, সবকিছুই যেন একটা অদৃশ্য শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এ মসস্ত দৃশ্য অবলোকন করে মনে মনে আমাদের দেশের সাথে তুলনা করলাম। কবে আমরা সিঙ্গাপুরের সমমনা হব, অথচ সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের জন্ম সম সাময়িক।






২৫ ফেব্রুয়ারী এই দিনটি মূলত আমরা রেখেছিলাম  সিঙ্গাপুরের দর্শনীয় স্থান সমূহ দেখার জন্য। সকালে নাস্তা শেষ করে আমরা বেরিয়ে পড়লাম সিঙ্গাপুরের দর্শনীয় স্থান দেখার জন্য। তার জন্য আমরা পরিকল্পনা করি যাতায়তের মাধ্যম হিসেবে পাতাল ট্রেন। সিঙ্গাপুরে ট্যাক্সি ক্যাবগুলোতে ভাড়া অনেক বেশি। কম ভাড়ায় পাতাল ট্রেনে অনেক জায়গায়  ভ্রমন করা যায়। প্রথমে আমরা ঠিক করি ইউনিভার্সাল স্টুডিও যাবার জন্য। ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে দেখলাম আমাদের হোটেলে আশে পাশে কোন স্টেশনটি অবস্থিত। সার্চ এ খুজে বের করলাম নোভেনা রেল স্টেশনটি আমাদের কাছে অবস্থিত। তাই আমরা সকালে প্রায়ই আধা ঘন্টা পায়ে হেটে এবং পথচারীদের জিজ্ঞাসা করে নোভেনা রেল স্টেশনে পৌছে গেলাম।  সিঙ্গাপুরে রেল স্টেশনগুলো ফেয়ারার পার্ক নামে পরিচিত। সিঙ্গাপুরের প্রত্যেক রেল স্টেশন মাটি থেকে প্রায়ই ২০০-৩০০ মিটার গভীরে অবস্থিত। প্রত্যেক  রেল স্টেশন এর উপরে বৃহৎ বৃহৎ শপিং মল গুলো অবস্থিত (ছবি) । 




এখানকার শহর পরিকল্পনাবিদ সিঙ্গাপুরকে এমনভাবে প্লানিং করেছেন যাতে রেল স্টেশন এর যাত্রিরা যাত্রা শেষে প্রয়োজনীয় মাকেটিং এর কাজ শেষ করতে পারেন। রেল স্টেশনে এসে দেখলাম মাটির নিছে  সিঙ্গাপুরের আরেক শহর। মাটির নিছে প্রায়ই তিনটি লিয়ারে ট্রেন চলাচল করে। ট্রেন চড়তে এসে বিপাকে পড়লাম, সবকিছু এখানে অটোমেশন। নগদ টাকা দিয়ে ট্রেন ভ্রমন করার সুযোগ একেবারে নেই। ট্রেনে ভ্রমন করতে হলে স্মার্ট কার্ড লাগে, যা কিনা বুথ থেকে টাকার বিনিময়ে স্মার্ট কার্ড নিতে হয়। আমরা প্রথমে বুথের বাইরে দাড়িয়ে সব কিছু লক্ষ্য করছিলাম। কিছুক্ষণ পড়ে সাহস করে কার্ড এর জন্য লাইনে দাড়ালাম এবং মনে মনে একজন সাহায্যকারী খুজছিলাম। ভাগ্যবশত আমাদের পাশে ১২-১৫ বছর বয়সী একজন বালক দেখতে পেলাম। সাহস করে বালক এর সাথে পরিচয় হলাম এবং ট্রেনের কার্ড কিনতে বালকটির সহযোগিতা চাইলাম। সে বিনয়ের সাথে রাজি হয়ে গেল এবং আমাদের দেখাল কিভাবে ট্রেনে ভ্রমনের কার্ড কিনতে হয়। আমরাও বিষয়টি ভালভাবে লক্ষ্য করলাম। পরবর্তীতে আমরা নিজেরাই ট্রেনে ভ্রমনের কার্ড ক্রয় করেছিলাম। এই ভ্রমন কার্ডগুলো কিন্তু রিফিল করা যায়।


 নোভেনা থেকে আমরা প্লান করলাম হারভার পয়েন্ট যাব সেখান থেকে সেন্টোসা আইল্যান্ড যাব। নোভেনা থেকে সরাসরি কোন ট্রেন নেই হারভার পয়েন্ট যাবার। আমরা যাত্রার সুবিধার্থে অন্য যাত্রিদের জিজ্ঞাসা কলরাম কিভাবে সেন্টোসা আইল্যান্ডে যেতে হয়। যাত্রি বললেন, হারভার পয়েন্ট যেতে হলে প্রথমে আমাদের ডুবি ঘট নামতে হবে। ডুবি ঘট থেকে আরেক ট্রেনে করে হারভার পয়েন্ট যেতে হয়। পরামর্শক্রমে আমরা ট্রেনে করে নোভেনা থেকে ডুবি ঘট এর উদ্দ্যেশে প্রথমবারের মত পাতাল ট্রেনে চললাম। এই বিচিত্র অভিজ্ঞতা, ট্রেনের কার্ড রেল প্লাটফর্মের নিকট ইলেকট্রনিক ডিভাইসে স্কেন করা মাত্রই রেল প্লাটফরমে প্রবেশের জন্য গেইট খুলে গেল এবং একটি বার্তা দিল যে আমার কার্ডে আর কত টাকা রয়েছে। প্রতি দুই থেকে পাচঁ মিনিটের মধ্যে ট্রেন আসছে আমরা অল্প কিছু সময়ের মধ্যে আমদের নির্ধারিত ট্রেনে ছড়লাম। প্রতিটি ট্রেনে খুব ভিড়, যাত্রিরা দাড়িয়ে, বসে ভ্রমন করছে (ছবি) । প্রতিটি ট্রেনে তিনটি ভাসায় ঘোষণা দিচ্ছে একটি ইংরেজী, একটি তামিল ভাষা অন্যটি সিঙ্গাপুরিয়ান ভাষা। এবং প্রত্যেক ট্রেনে রুটের লে আউট এর ডিসপ্লে রয়েছে এবং কোন স্টেশন এর পর কোন স্টেশন তা প্রতিনিয়ত আপডেট দিচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটক এর জন্য কোন স্থানটিতে কি কি বিশেষ দর্শনীয় স্থান, মার্কেট রয়েছে তার বর্ণনা দিচ্ছে, যা পর্যটকদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ও আর্কষণীয়। আমরা প্রায়ই পনের মিনিটের মধ্যে ডুবি ঘট চলে আসলাম। সেখান থেকে আমরা আরেক ট্রেনে করে হারভার পয়েন্টে আসলাম। হারভার পয়েন্ট সিঙ্গাপুরের একেবারে দক্ষিণের অংশ। হারভার পয়েন্টে আসতে আমাদের মোট সময় লেগেছে প্রায়ই ৩৫-৪০ মিনিটি। তারপর আমরা হারভার পয়েন্ট থেকে পায়ে হেটে সেন্টোসা আইল্যান্ড এর পথে রওনা হলাম। প্রায়ই আধা ঘন্টা হেটে আমরা সেন্টোসা আইল্যান্ডে পৌছলাম। 





সেন্টোসা আইল্যান্ডটি সিঙ্গাপুরের মুল ভূ-খন্ড থেকে বিচিছন্ন। এটি সিঙ্গাপুরের সাথে একটি সংযোগ সড়ক ও সাসপেনশন ব্রিজ এর মাধ্যমে কানেকটিং হয়েছে, যার সৌন্দর্য অপূর্ব ও নান্দনিক (ছবি) । সেন্টোসা আইল্যান্ড এর মূল আর্কষণ হল ইউনিভার্সাল স্টুডিও ও সী একুরিয়াম। সিঙ্গাপুরের ইউনিভার্সাল স্টুডিও অনেকটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সাল স্টুডিও এর আদলে গড়ে উঠেছে। এখানে আসার পর মনে হল যেন কোন এক কল্পনার রাজ্যে চলে এসেছি (ছবি) । এখানে রয়েছে বিভিন্ন সেকশন যেমন হলিউড,সাই ফাই,জুরাসিক পার্ক, মাদাগাস্কার ইত্যাদি। এছাড়াও অনেক সিনেমার চরিত্র যেমন চার্লি চ্যাপলিন, মেরেলিন মুনরো প্রমুখদের সাথে ছবি তোলার সুযোগ। এই ইউনিভার্সাল স্টুডিও তে প্রবেশ মূল্য প্রায়ই ১০০ ডলার। ইউনিভার্সাল স্টুডিও সৌন্দর্য উপভোগ করে আমরা স্কাই ট্রেনে করে আবার হারভার পয়েন্টে চলে আসলাম।



হারভার পয়েন্টে এসে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম সিঙ্গাপুরের আইকন মারলায়ন পার্কে যাবার। যেই সিদ্ধান্ত সেই কাজ, হারভার পয়েন্টে এর ফেয়ারা পার্ক  (রেল স্টেশন) এসে নতুন করে টিকেট ক্রয় করে মারলায়ন পার্কে উদ্দেশ্য রওনা হলাম। মধ্য পথে আমরা  রাফেলস প্লেসে  নেমে যাই। রাফেলস প্লেসে বিখ্যাত হল আকাশ চুঙ্গি অট্রালিকার জন্য। স্যার স্টামফোর্ড রাফেলস ১৮২০ সালে এই স্থানটিকে সিঙ্গাপুরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। স্টামফোর্ড রাফেলস এর নাম অনুসারে এই স্থানের নাম রাখা জয় রাফেলস প্লেস। পৃথিবীর বিখ্যাত বিখ্যাত কর্পোরেটদের অফিসগুলো এই স্থানে অবস্থিত। এখানকার স্থাপনাগুলো দেখতে হলে আপনার মাথা ঘাড় থেকে ৯০ ডিগ্রি কোণ করে বাকাঁতে হবে।





রাফেলস প্লেসের স্থাপনাগুলো দেখতে দেখতে হেটে আমরা মারচেন্ট নদীর (সিঙ্গাপুর নদী) তীরে চলে আসি। এই নদীর তীরটি ঐতিহাসিকভাবে প্রসিদ্ধ। এই নদীর উপরে ঐতিহাসিক ক্যাভেনাগহ ব্রীজ রয়েছে যা ১৮৫৬ সালে ব্রিটিশ কর্তৃক তৈরী।  ব্রীজটির স্থাপত্য কৌশল খুবই নান্দনিক এবং এটি ১৮৭০ সালে ব্যবহারের জন্য উমুক্ত করে দেওয়া হয়।। ব্রীজটির মুখে ঐতিহাসিক ফুলারটন হোটেলটি অবস্থিত। ফুলারটন হোটেলের স্থাপত্য নকশা খুবই আকর্ষনীয় ও নান্দনিক ।




এখানে আমরা বেশ কিছু সময় কাটাই। ব্রীজটি পার হলেই এশিয়ান সিভিলাইজেশন মিউজিয়াম, ভিক্টোরিয়া থিয়েটর ও ন্যাশনাল গ্যালারী সিঙ্গাপুর । আমাদের কাছে সিঙ্গাপুরের এই স্থানটি খুবই ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর নদীর পাড় ধরে ধরে আমরা মারলায়ন পার্কে চলে আসি। এখানে ঢুকতে কোন টিকেট লাগেনা। এখানে একটি মূত্তি রয়েছে যার শরীরের পুরো অংশ মাছের ন্যায় আর মুখ সিংহের মতো শ্বেত পাথরের ঝর্না । 








এটি সিঙ্গাপুরের মূল আর্কষণ। এটাকে সিঙ্গাপুরের প্রতীক ধরা হয়। এটি পৃথিবীর সকল দর্শনার্থীদের স্বাগত জানায়। আমরা অনেকক্ষণ ধরে এর সৌন্দর্য উপভোগ করলাম। এর পাশেই রয়েছে নৌকা করে নদী ভ্রমনের সুযোগ। সারাদিন আমরা সিঙ্গাপুরের দর্শনীয় স্থানসমূহ অবলোকন করে আমরা হোটেলে ফিরে গেলাম। পরবর্তীতে ফ্রেশ হয়ে সন্ধ্যায় আমরা স্থানীয় একটি বাংলাদেশী পত্রিকার সম্পাদকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করি। এই সাক্ষাৎে আমরা সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশী শ্রমিকদের অবস্থা জানতে চাই। সম্পাদক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে আমাদেরকে সহযোগিতা করেছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশী শ্রমিকদের পরিবেশনায় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করি । আর ঐ দিনটি রোববার থাকায় বেশ সংখ্যক বাংলাদেশীর সাথে পরিচয় হয়। আর মূলত  রোববার সিঙ্গাপুরের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন। সিঙ্গাপুরের অবস্থিত বাংলাদেশীরা রোববারে মোস্তফা সেন্টারের পাশে ও লিটল ইন্ডিয়া বেশ জড়ো হয়।

সিঙ্গাপুরে শপিং এ বেশ বড় বড় ও পৃথিবী খ্যাত শপিং মল আছে যেমন সিটি স্কোয়ার মল, মারিনা বে স্যান্ডস মল, অচার্ড পয়েন্ট এর মার্কেটগুলো। তবে কম খরছ ও সাধ্বের মধ্যে কেনা কাটার জন্য লিটল ইন্ডিয়া ও মোস্তফা সেন্টারের মার্কেটগুলো বেশ জনপ্রিয়। আমি কেনা কাটায় তেমন আগ্রহী ছিলাম না, তবে প্রয়োজনীয় কিছু কেনা কাটা বিশেষ করে সুভিনিয়র ধরনের জিনিস লিটল ইন্ডিয়া ও মোস্তফা সেন্টারের মার্কেটগুলো থেকে ক্রয় করেছিলাম।





এভাবে চারটি দিন ব্যস্ততা,কাজের  ও বেড়ানোর মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছি সময় হল দেশে ফেরার। আমাদের ফিরতি ফ্লাইট ছিল ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ বেলা তিনটায় বাংলাদেশী বিমানের ফ্লাইটে। ২৬ ফেব্রুয়ারী সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করি ও ব্যাগ, লাগেজ ঘুছিয়ে নেই। বেলা ১১ টার দিকে আমরা হোটেলে রুম চেক আউট করি। টেকি্রা ক্যাবে করি চাংগি এয়ারপোর্ট উদ্দেশ্য রওনা দেই। চলার পথে মনে হচ্ছিল পুরো রাস্তাটাকেই যেন সাবান দিয়ে কে যেন ধুয়ে রেখেছে। সিঙ্গাপুরের আবহাওয়া  নাতিশীতোষ্ঞ, প্রতিদিনের বৃষ্টি শহরের সব ধূলা ময়লা পরিস্কার করে দেয়। রাস্তার দু’ধারে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা আর্কিটেকচারাল ডিজাইনের বিশাল বিশাল ভবন আর তার আঙিনার শোভাবর্ধণকারী গাছ-গাছালি লতা-গুল্ম পাতাবাহারসমূহ অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর  । কোনটি ছেড়ে কোনটি দেখব! বিস্ময়ে অপলক চোখে চেয়ে থাকলাম সেদিকে। প্রায়ই চল্লিশ মিনিটের মধ্যে আমরা সিঙ্গাপুরের একমাত্র ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট চাংগি এয়ারপোর্ট পৌছলাম। 




এয়ারলাইন্স এর প্রয়োজনীয় কাজ সেরে সিঙ্গাপুরের ইমিগ্রেশন ক্রস করলাম। এবং বিমানের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশের বিমান  সিঙ্গাপুরের সীমানে ছেড়ে প্রায়ই ৩.৩০ ঘন্টায় প্রায় ৩০০০ কি.মি পথ পাড়ি দিয়ে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে অবতরণ করল। আমরা সবাই সুস্থ শরীর, মন ও ভাল কিছু স্মৃতি নিয়ে সুইট হোমে ফিরে গেলাম।

সারকথায়, সিঙ্গাপুর হলো পৃথিবীর সপ্তম ব্যয়বহুল দেশ। এইবার বুঝেন কি পরিমান খরচ! ১০০ ডলারের নিচে কোন হোটেল পাওয়া যায়না বললেই চলে। তবে এ দেশের আয়তন খ্বু অল্প। ২ ঘন্টায়ই দেশের  এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারবেন কারন এ দেশের যাতায়াত ব্যবস্থা বেশ উন্নত। যে কোন একটা যায়গায় হোটেল নিয়েই চলে কারন আপনি যেখানেই ঘুরেন না কেনো, আপনি আবার খুব সহজেই এই হোটেলে এসে থাকতে পারবেন। তারা খুবই ভদ্র একটি জাতি। নিয়মের বাহিরে কিছুই করে না। আপনি ১০০ ভাগ নিরাপদভাবে যে কোন অলিগলিতে হেটে বেড়াতে পারবেন। ছিনতাই হওয়ার কোন প্রকার সম্ভাবনা নেই। এভারেজে আপনাকে প্রতিদিনের জন্য ২০০ ডলার খরচ করতে হতে পারে যদি আপনি আমার মতো করে খরচ করতে অভ্যস্ত হন আরকি! তবে, দেশটির আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা অনেক উন্নত এবং বেশ কড়া। তাই চেষ্টা করবেন যেখানে সেখানে আবর্জনা আর থুথু না ফেলতে। অন্যথায় অনেক বেশী জরিমানা গুনতে হতে পারে। তবে মিঙ্গাপুরে বাংলাদেশী শ্রমিকদের অবস্থা মিশ্র কেউ ভাল আছে কেউ ভাল নেই। অভিযোগ রয়েছে রিক্রুটাররা কারণ ছাড়া চাকুরী থেকে অব্যহতি, বিনা নোটিশে চাকুরী  থেকে অপসারন, কম মুজরী ইত্যাদি | বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশীরা বাংলাদেশীর ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। তবে দক্ষ হয়ে গেলে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশী শ্রমিকদের সম্ভাবনা বেশ উজজ¦ল।

শুক্রবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৭

অসাম্প্রদায়িক চেতনা বাংলার চিরায়িত রুপ

ইতিহাস বলে বাংলাদেশের জনগণ অসাম্প্রদায়িক পক্ষের এক উজ্জল উদাহরণ। ব্যক্তি জীবনে আমরা বাংঙ্গালীরা বিভিন্ন ধর্মে বিশ^াসী হলেও সামাজিক জীবনে মায়ার বাঁধেন হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্দ, খ্রীষ্টান একে অপেরর সঙ্গে যেন মিলেমিশে একাকার।  সারা বছর এই বাংলায় যেন উৎসব লেগেই থাকে বছরে দু'টা ঈদ, শবে বরাত, কালী পূজা, দুর্গা পূজা, সরস্বতী পূজা, বৌদ্দ পূর্ণিমা, মাঘে পূর্ণিমা, চিবর দান, বড় দিন, নিউ ইয়্যার  যে বাপক উৎসাহ উদ্দীপনা হয় হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্দ-খ্রীষ্টান মাঝে তাতে বুঝা কঠিন কোনটা কার উৎসব।

রোজার ঈদে চাঁদ রাতে রাম-মালার ঘাটে বসে শিবু, লিটন, বিকাশ, শরীফ সবাই মিলে আমরা ঈদের চাঁদ দেখতাম। চাদঁ দেখা হলে আতঁশ বাজী ফুটাতাম। সকালে ঈদের নামায পরেই শিবু, লিটন, বিকাশ, শরীফ সবাই আমাদের বাসায় চলে আসত। দুপুরে খাওয়া-ধাওয়া করে বিকেলে সবাই বাড়ি ফিরত। শিবু, লিটন,বিকাশ মাংশ খেতনা বলে মা তাদের জন্য আলাদা করে মাছ ও মুরগীর মাংশ রান্না করত। ঈদ যে শিবু, লিটন,বিকাশদের উৎসব না এটা কখনো মনে হয়নি বা বুঝতাম না। রোযার সময় আরও মজা হত, সবাই মিলে ভোর রাতে সেহরী খাবার জন্য মহল্লায় দায়িত্ব পালন করতাম, তারাবীর নামায না পড়ে ঘোড়াঘোরি। সন্ধ্যার ইফতার সবাই মিলে ভাগাভাগি করে খেতাম। কোরবানী ঈদে অনেকে গরুর সাথে খাসী কোরবানি দিতেন, যাতে করে হিন্দু বন্ধুরা কোরবানির আনন্দে শামিল হতে পারে। আর শবে বরাত ও শবে কদরের রাতে সব বন্ধুরা মিলে সারা রাত জেগে শহরের বিভিন্ন মসজিদ ও মাজারে গিয়ে মিলাদে অংশগ্রহন। যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল তাবারক সংগ্রহ।

একই ধরেনর ঘটনা ঘটেতা পূজার সময়, দুর্গা পূজা বাঙ্গালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। স্কুল থেকে ফেরার পথে পূজা মন্ডপ পরত, সেখানে মাঝে মাঝে গিয়ে পূজার প্রস্ততি দেখতাম। পূজার দিন সকাল থেকেই ঢাক বাজতে শুরু করত পাশাপাশি মাইকে পুরানো দিনের হিন্দি/বাংলা গান বাজত। আজানের সময় ঢাক ও গান বাজনা বন্ধ রাখা হত। সপ্তমীতে আমরা সবাই নতুন জামা পড়ে শিবু, লিটন, বিকাশদের বাড়ি যেতাম, তারাও নতুন জামা পড়ত। এলাকা এলাকা ঘুরে পূজা দেখতাম, চড়কিতে চড়তাম, নাড়–, সন্দেশ, জিলাপি খেতাম এবং ওরা অমাদের বাসায়ও এসব খাবার পাঠিয়ে দিত। পূজা মন্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করত আমাদের এলাকার মুসলমান বড় ভাইরা। এমন ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতীর উদাহরন পৃথিবীর কোথায় দেখা যায় না।

কিন্তু আজ ভাবতে সত্যিই কষ্ট হয়, যখন শুনি বা মিডিয়ায় দেখি হিন্দু, বৌদ্দ, খ্রীষ্টান ও আদিবাসিদের উপর হামলা হয়েছে। কোথাও কোথাও প্রতিমা, মন্দিরে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ দেয়া হয়েছে। তাহলে কি আগের সেই পারস্পরিক সহাবস্থান ও শ্রদ্ধাবোধের জায়গা অনেকটা নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির জায়গায় কি ফাটল ধরছে। কিন্ত এটাত হবার কথা নয় বংশানুক্রমিক ভাবে যে জাতি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্দ, খ্রীষ্টান ও আদিবাসি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অটুট বন্ধনে বসবাস করে আসছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ভুল তথ্য প্রচ্ারণায়, অপব্যবহার ও স¦ার্থনেস্বী মহলের অপচেষ্টায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জায়গায় মাঝে মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যেমন ২০১২ সালের রামু ট্র্যাজেডি, ২০১৬ সালে ব্রাক্ষনবাড়িয়ার নাসির নগরের হামলা, সম্প্রতি ২০১৭ সালে রংপুরে হিন্দু গ্রামে হামলা। সুবিধাভোগি স¦ার্থনেস্বী মহল আজ হাজার বছরের লালিত সংস্কৃতিকে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জায়গায় ফাটল ধরাচ্ছে। এই বিষয়ে আমাদের সর্তক থাকতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং এই বিষয়ে নিজে সচেতন হতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যেগ গ্রহন করতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য উস্কানি মূলক সংবাদ, তথ্য সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, শেয়ার বন্ধ করতে হবে। এই দেশ আমাদের সবার মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্দ, খ্রীষ্টান ও আদিবাসি সবার সমান অধিকার। সবাই তার নিজস্ব ধর্ম-কর্ম পালন করার অধিকার রয়েছে।
মনে রাখতে হবে বৈচিত্রতা জাতিকে সমৃদ্ধ ও সুন্দর করে । একটি দেশ তখনই  সমৃদ্ধ ও উন্নত যখন সকল ধর্ম ও মতের লোকেরা সমান রক্ষিত ও স্বাধীন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রিয় বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে তুলে সম্প্রীতীর দৃষ্টান্তকে পুনরায় স্থাপন করতে হবে। একই সুরে সবাই মিলে আগের মত করে গাইতে চাই, গ্রামের নওজাওয়ান হিন্দু-মুসলমান মিলিয়া বাংলা গার আর মুশির্দী গাইতাম..আগে কি সুন্দর  দিন কাটাইতাম..।


বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৭

শুধু আইন বা নীতিমালা নয় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চাই ব্যক্তি সচেতনতা ও সামাজিক উদ্যোগ

আইন বা নীতিমালা তৈরী ও প্রণয়ন করে অনেক সমস্যা সমাধান করা যায়। কিন্তু কিছু বিষয় রয়েছে যা আইন বা নীতিমালা তৈরী করেও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।   যার জন্য প্রয়োজন রয়েছে ব্যক্তি সচেতনতা ও সামাজিক উদ্যোগ। তেমনি একটি বিষয় হল সড়ক দুর্ঘটনা। গত কয়েক বছর ধরে সড়ক দুর্ঘটনা বাংলাদেশে ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পাশাপাশি বেড়েছে বিকলাঙ্গের সংখ্যা, যা মৃত্যুও চেয়ে ভয়ানক। গত পাঁচ বছরে সড়ক দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায়ই বিশ হাজার ও জখম হয়েছেন ১৫০০০।


সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যে কয়টি বিষয়কে দায়ী করা হচ্ছে সেটি হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ, মোটরযানের উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও সচেতনতার অভাব। গবেষণায় দেখা যায় বাংলাদেশের নগরায়ণের হার ৪% এবং মোটরযান বৃদ্ধির হার ৮%, ফলস্বরুপ সড়ক গুলোতে ট্রাফিক জ্যাম, রাস্তার কাঠামোগত অবনতি এক প্রকট আকার ধারন করেছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জন সচেতনতার অভাব। সম্প্রতি রাস্তায় খুবই চোখে পড়ে, মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হওয়া, কানে ইয়ার ফোন বা ব্লু-টোথ লাগিয়ে ব্যস্ত সড়ক বা রেল পথে হাটা ও পার হওয়া তারপর সড়ক দুর্ঘটনার পতিত হওয়া। আপনি যে কোন দিন যে কোন সময় আপনার এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড়কের পাশে কিছুক্ষণ দাড়াঁন। তারপর চোখে পড়বে সেই সব দৃশ্য, ট্রাফিক সিগন্যাল তোয়াক্বা না করে ব্যস্ত সড়ক পার হচ্ছেন এবং কানে মোবাইল ফোনে  কথা বলে রাস্তা পরাপার। এবং অনেকক্ষেত্রে নিজেই ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকায় রাস্তার পারাপার হচ্ছে যেমন একটি হাত তুলে চলন্ত সড়ক পার হচ্ছেন, ওভার ব্রীজ ব্যবহারের বদলে রাস্তার মধ্যে দিয়ে হেটে ঝুকিঁপূর্ণ ভাবে রাস্তা পার হচ্ছে। মহাসড়কে দেখা যায় রেইস প্রতিযোগিতা কার আগে কে গন্তব্য স্থলে পৌছবে। আর এই সব পরিস্থিতেতে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা ও ঝড়ছে মূল্যবান প্রাণ। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র ওবায়দুল্লাহর কথা। অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় সেমিষ্টারের ছাত্র ২০১৬ সালের ২০ই মে কমলাপুরগামী ট্রেনের নীচে কাটা পড়ে মারা যান তিনি, যার হাতে ছিল আইসক্রিম আর কানে ছিল মুঠোফোন। আবার গাড়ি চালানো অবস্থায় চালকের মুঠোফোনে কথা বলা খুব দৃশ্যমান। যদিও গাড়ির ভিতর লেখা থাকে চলন্ত অবস্থায় চালকের সহিত কথা বলবেননা। আর চালক সাহেব ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ির স্টেয়ারিং ঘোরাচ্ছেন, ক্লাচ-ব্রেক নিয়ন্ত্রন করছেন। কিন্তু ২০০৭ সালে মোটরযান আইনে আছে কোনো চালক গাড়ি চালনা অবস্থায় মুঠোফোনে কথা বললে ৫০০ টাকা জরিমানা ও জেল দন্ড দেওয়া যাবে। কিন্ত এই ধরনের আইনের প্রয়োগের খবর তেমন একটা চোখে পড়েনা। 


প্রত্যেকটা জীবন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও মুল্যবান। নিজের জন্য না হোক,  প্রিয়জন, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র কথা চিন্তা করে আমাদের সবাইকে সুস্থ হয়ে বাচঁতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা থেকে আমাদের মুল্যবান জীবনকে রক্ষা করতে হবে। সেইজন্য আমাদেরকে সচেতন হতে হবে, সড়ক নিরাপত্তা প্রতীক ও ব্যবহারের জ্ঞান সবাইকে জানতে হবে ও জানাতে হবে। পাঠ্য-পুস্তকে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়গুলো অর্ন্তভূক্ত করতে হবে। প্রতিযোগিতা মূলক ভাবে গাড়ি চালানো পরিহার করতে হবে এবং এই ব্যাপারে চালক ও যাত্রীকে সচেতন হতে হবে। মহাসড়কের সমস্ত ব্ল্যাক স্পটগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনে ট্রিটমেন্ট করতে হবে। প্রকৃত লাইসেন্স ধারী দের দিয়ে গাড়ি চালনা করতে হবে এবং এই ব্যাপারে গাড়ি চালক ও সহকারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আয়োজন করতে হবে। রাস্তার বাঁেক, মোড়ে ও চৌরাস্তায় গাড়ি দাড়করিয়ে যাত্রি উঠা ও নামানো একে বারে বন্ধ করতে হবে। নির্দিষ্ট জায়গায় গাড়ি দাড়করিয়ে যাত্রি উঠা ও নামানো করতে হবে। বর্ষা মৌসুমে কথা চিন্তা করে সড়ক তৈরীর উপকরনে পরিবর্তন আনতে হবে এবং এই সময় রাস্তা দূত মেরামত করতে হবে। যাতে বর্ষায় রাস্তার যে ক্ষতি ও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে তা অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়। শীতকালের কথা চিস্তা করে মহা সড়কে লাইটিং এর ব্যবস্থা করা ও যানবাহনে নিয়ন আলোর ব্যবস্থা রাখা।

পরিশেষে বলতে চাই, আইন, নিয়ম নীতি, কাঠামোর সংস্কার করে হয়ত সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা যেতে পারে। তবে ব্যত্তিগত সচেতন ও কিছু বদ অভ্যাসের পরিবর্তন না করলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমাদের স্বার্ভিক অর্জন চেষ্টা ব্যার্থ হবে। তাই আসুন সড়ক দুর্ঘটনা রোধে, মূল্যবান জীবন ও সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি।

সোমবার, ২৪ জুলাই, ২০১৭

Flood Crisis in Southern Asia: Bangladesh, India and China Perspective

Southern Asia is already the wettest area on the continent and one of the wettest regions in the world, receiving an average of at least 1000mm of rainfall a year. According to statistics from Belgium's Universite Catholique de Louvain's Emergency Events Database, since 1950, more than 2.2 million people in these countries have been killed by flooding. Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC), wrote in its latest report the Asia region was already suffering "huge economic losses" from weather and climate disasters, with one quarter of the entire world's economic losses from disasters in Asia alone.

For large established cities there are two options- physical infrastructure to keep the water away from citizens and preventative measures to keep people away from the water. And preparedness, early warning systems, green infrastructure, things like that. Research found that early warning systems are perhaps the best investment that a country and a city can make. A proverb has "A dollar invested in early warning systems can save four to eight dollars in avoided losses later on."

In regards of Bangladesh, a study in 2010 found it would cost more than $2.6 billion to adequately protect Bangladesh's roads, railways and drainage systems. But, experts suggest local changes won't be enough though, and say flood basins in China, India and Bangladesh need to coordinate across cities to find the best locations for housing and to halt flooding in its path as well establish a mutual agreement on inter river linking on that continent. 

Source: http://edition.cnn.com/2017/07/24/asia/climate-change-floods-asia/index.html?sr=fbCNN072517climate-change-floods-asia1010AMVODtop

বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই, ২০১৭

তথ্য সচেতন যুব সমাজ গঠনে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার ও ভূমিকা

বাংলাদেশ সহ সারা বিশে^ সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপক জনপ্রিয়তা বেড়েছে। বিশ^জুড়ে নানাদেশে বিভিন্ন মত-পথ প্রচার প্রকাশ, সচেতনতা ও একত্রিত করা, তথ্য প্রচার করা, পণ্যের বিপণন করা, এমনকি প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া একটি বড় প্লাটফর্ম হয়ে দাড়িয়েছে। বাংলাদেশে স্মার্ট ফোন ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার বহুবিধ ব্যবহার। সোশ্যাল মিডিয়া এখন মুলধারার গণমাধ্যমের সমান্তরাল এবং বিকল্প হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ফলে উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাঠ পর্যায়ের কৌশল বাস্তবায়নে এক নতুন ধারা সৃষ্টি হয়েছে। স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বপ্রণোদিত হয়ে বিবেকের তাড়নায় কিংবা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কিছু সৃষ্টিশীল মানুষ, উদ্যমী যুবক, ইতিবাচক নেতৃত্ব ও পরিবর্তনের দূতরা তুলে ধরছে সমাজ উন্নয়নের সফলতা, সুযোগ ও ক্ষেত্র-সমূহ। এবং ব্যাপক ভাবে প্রচার করছে ব্যক্তি, দল ও সমাজের উত্তম চর্চা সমূহ। এই চর্চা সমাজ পরিবর্তনে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে যার ফলে কমিউনিটিতে সম্প্রতি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে এবং যুবরা তথ্য সচেতন ও কর্মদক্ষ হয়ে গড়ে ওঠার ক্ষেত্র তৈরী হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়া কি?
সহজ ভাষায় সোশ্যাল মিডিয়াকে বলা যেতে পারে একটি ইন্টারনেট নির্ভর যোগাযোগের মাধ্যম যা আইসিটি উপকরণ ব্যবহার করে থাকে এবং এর দ্বারা এক বা একের অধিক মানুষের সাথে খুব সহজেই এবং খুব কম খরচেই তথ্য বিনিময় করা যায়। গতানুগতিক মাধ্যমের মতই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে দূর দুরান্তের খবর সংগ্রহ এবং বিনিময় করা যায়। খুব সহজেই বিপুল সংখ্যক বন্ধু বা দর্শকের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে কোন বিষয়ে মতামত গ্রহণ বা জনমত তৈরী করা যায়। কিন্তু গতানুগতিক মাধ্যমের সাথে এর পার্থক্য এই যে বিশ্বব্যাপী বা আঞ্চলিক সোশ্যাল মিডিয়ায় সহজেই যে কোন যোগাযোগ, মতবিনিময় বা আলোচনা তাৎক্ষনিক করা যায় । 

সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইট গুলো হচ্ছে ফেইস বুক (Facebook), ইউ টিউব (YouTube), টুইটার (Twitter), গুগোল প্লাস (Google+), লিঙ্কড ইন (LinkedIn)  এবং ইন্সটাগ্রাম (Instagram)

সামাজিক মাধ্যম এখন সাধারণ মানুষের ব্যবহারের বাইরেও আরও বিভিন্ন মহলে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যেমন সরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং বেসরকারি সংস্থা। বন্ধু ও পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখা থেকে শুরু করে সরকারি বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের ভেতর যোগাযোগের ক্ষেত্রে, তৃণমূল পর্যায়ে সুশীল সমাজের সচেতনতামুলক কার্যক্রম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এবং ব্যবসায়ীদের পণ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যম খুব কার্যকর ভুমিকা রেখে যাচ্ছে। 


তথ্য সচেতন যুব সমাজ গঠনে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার ও ভূমিকাঃ
যুবরাই সোশ্যাল মিডিয়া বেশি ব্যবহার করে থাকেন। পরিসংখ্যান মতে ১৮-৩৫ বয়সের প্রায়ই ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে। এবং এই তথ্য শহর টু গ্রামে ভিন্ন হতে পারে। তবে এই কথা সত্য যে, বাংলাদেশে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে সিংহভাগ জনগোষ্ঠি যুবক শ্রেণী। যুবদের তথ্য সচেতন, কর্ম-দক্ষ, আত্ম-বিশ^াসী, দেশপ্রেমী ও রাজনৈতিক সচেতন হিসেবে গড়ে তুলতে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপক ব্যবহার ও ভূমিকা রয়েছে। এখন প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠান, অসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং স্বায়িত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান সবারই সোশ্যাল মিডিয়া পেইজ রয়েছে। অনেকক্ষেত্রে প্রকল্প ভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়ার পেইজ রয়েছে। আর এই সমস্ত পেইজে  যুবদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আপডেট দেওয়া হয়। যেমন; যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ফেইসবুকে পেইজে যুবদের দক্ষতা বৃদ্ধিও প্রশিক্ষণ বিষয়গুলো আপডেট দেওয়া হয়। একইভাবে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের ফেইসবুক পেইজে সঠিক শ্রম অভিবাসনের তথ্যগুলো শেয়ার করা হয়। এবং আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ফেইসবুক পেইজে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নাগরিকদের করনীয় দিক সমূহ শেয়ার করা হয়। বিভিন্ন এনজিও ও তাদের পরিচালিত কর্মকান্ডে সর্ম্পকে মতামত ও মূল্যায়ন করতে সোশ্যাল মিডিয়া মতামত সংগ্রহ ও ভার্চুয়াল কনফারেন্স এর আয়োজন করে থাকে। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস এর সোশ্যাল মিডিয়া পেইজে চাকুরীর ও পেশাগত উন্নয়ন এর তথ্য, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পেইজে আর্থিক সুবিধা ও উদ্যেত্তা হবার তথ্য শেয়ার করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পেইজে বৃত্তি, উচ্চ শিক্ষার তথ্য প্রকাশ করা হয়। 

শিক্ষাক্ষেত্রে বহুল ব্যবহ্যত বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার ঠিকানাঃ
www.youtube.com
www.youthopportunities.org

চাকুরী লাভ ও পেশাগত উন্নয়নে বহুল ব্যবহ্যত বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার ঠিকানাঃ
www.bdjobs.com
www.youthop.com
www.bpsc.gov.bd
www.unv.org

আউটসোসিং কাজের জন্য মার্কেট প্লেসঃ

আর এই সমস্ত খবরা-খবর ও তথ্য আদান প্রদান অধিক মানুষের সাথে খুব সহজেই এবং খুব কম খরচেই করা যায়।  এই ক্ষেত্রে আমাদের করনীয় হবে ঐ সমস্ত প্রান্তিক যুব গোষ্ঠিকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ-অধিদপ্তর, মার্কেটপ্লেস গুলোর সোশ্যাল মিডিয়া পেইজ সর্ম্পকে যুবদের অবহিত করা ও সংযোগ তৈরী করিয়ে দেওয়া। এই ক্ষেত্রে সমাজ উন্নয়ন সংস্থাগুলো অগ্রগামী ভূমিকা পালন করতে পারে। যেমন: সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারকে সহজ ও প্রবেশগম্য করার জন্য কর্মসূচী হাতে নেওয়া, প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সোশ্যাল মিডিয়া পেইজের লিংক সংগ্রহ করে তা যুব সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। এলাকা ভিত্তিক, বিষয় ভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া পেইজ তৈরী করে সেখানে বিভিন্ন সোশ্যাল গ্রাফিকস প্রকাশ করে বিষয় ভিত্তিক সচেতনতা তৈরী করা। 

কিন্তু কোন কিছু যতোই জনপ্রিয় হোক না কেন,তার কিছু নেগেটিভ দিক তো থাকবেই! এবং সে ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা সতর্ক থাকতে হয়। একইভাবে দক্ষ ও তথ্য সচেতন যুব সমাজ গঠনে যুবদের অধিক সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। যেমন-সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তি, দল, রাস্ট্র সর্ম্পকে উদ্দেশ্যমুলক ভাবে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করা থেতে বিরত থাকা ও সর্তক হওয়া। তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া আর্শীবাদী নিয়ামক হিসেবে একটি তথ্য সমৃদ্ধ, দক্ষ যুব সম্প্রদায় গঠনে কার্যক্রর ভূমিকা পালন করবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল সবাই উপভোগ করবে।